অপরাধের শিকড়
অমীমাংসিত রহস্য
ইতিহাস
ইতিহাসে আজ
উদ্ভাবন ও আবিষ্কার
ঐতিহাসিক ঘটনা
ঐতিহাসিক স্থান
ঐতিহাসিক ছবি
কালের বিবর্তন
খাদ্যের ইতিহাস
খেলাধুলার ইতিহাস
ব্যক্তিত্ব
জীবনধারা
নামকরণের ইতিহাস
পৌরাণিক কাহিনি
শিল্প ও বিপ্লব
ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ
মহাকাশ ইতিহাস
রাজা ও রাজ্য
শিক্ষা ও জ্ঞান
স্মরণীয় দিন
সাম্প্রতিক ইতিহাস
ইতিহাসে আজ

মালালা ইউসুফজাই -যে মেয়েটিকে গুলি করেও থামানো যায়নি

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। আজ, ১২ জুলাই, তাঁর জন্মদিন। এই দিনটিকেই বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় "মালালা ডে" হিসেবে—শিক্ষার অধিকার এবং নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে।

By Admin · July 11, 2026 · min read
মালালা ইউসুফজাই -যে মেয়েটিকে গুলি করেও থামানো যায়নি - The Reverse Times Bangladesh History Magazine

একটি গুলি... আর বদলে গেল ইতিহাস

ভাবুন, শুধু স্কুলে যাওয়ার অপরাধে একটি কিশোরীকে বাসের ভেতর মাথায় গুলি করা হলো।

অনেকেই ভেবেছিল, এখানেই তার গল্পের শেষ।

কিন্তু ইতিহাস অন্য কিছু লিখে রেখেছিল।

সেই কিশোরীই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। আজ, ১২ জুলাই, তার জন্মদিন। সারা বিশ্ব এই দিনটিকে পালন করে Malala Day হিসেবে—শিক্ষার অধিকার ও সাহসের প্রতীক হিসেবে।

মালালা ইউসুফজাই কে?

মালালা ইউসুফজাই জন্মগ্রহণ করেন ১২ জুলাই ১৯৯৭ সালে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায়।

তার বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই ছিলেন একজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন, ছেলে-মেয়ে সবাই সমানভাবে শিক্ষার অধিকার রাখে। বাবার সেই আদর্শই মালালার জীবনের ভিত্তি তৈরি করে।

যখন স্কুলে যাওয়াই ছিল অপরাধ

২০০৭ সালের পর সোয়াত উপত্যকায় তালেবানের প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে।

একের পর এক মেয়েদের স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্কুল ভবন ধ্বংস করা হয়।

মেয়েদের শিক্ষাকে 'অবৈধ' ঘোষণা করা হয়।

এই সময় মাত্র ১১ বছর বয়সে মালালা বিবিসি উর্দুর জন্য ছদ্মনামে ডায়েরি লেখা শুরু করেন। সেখানে তিনি লিখতেন—যুদ্ধ, ভয়, আর স্কুলে যাওয়ার অধিকার হারানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা।

৯ অক্টোবর ২০১২: যে দিন বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল

স্কুল শেষে বাসে করে বাড়ি ফিরছিল মালালা।

হঠাৎ একজন সশস্ত্র তালেবান সদস্য বাসে উঠে জিজ্ঞেস করল,

"মালালা কে?"

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গুলি ছোড়া হয়।

গুলিটি তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে।

প্রথমে পাকিস্তানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তাকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে স্থানান্তর করা হয়।

সারা বিশ্বের মানুষ তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করে।

মৃত্যুকে হারিয়ে ফিরে আসা

অলৌকিকভাবে মালালা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

কিন্তু তিনি প্রতিশোধের কথা বলেননি।

বরং শিক্ষা নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৩ সালে জাতিসংঘে দেওয়া তার বিখ্যাত বক্তৃতায় তিনি বলেন—

"একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি বই এবং একটি কলম পৃথিবী বদলে দিতে পারে।"

এই বক্তব্য তাকে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার অধিকারের অন্যতম মুখপাত্রে পরিণত করে।

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী

২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে মালালা নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

আজও তিনিই বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী।

পরবর্তীতে তিনি Malala Fund প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে।

কেন পালন করা হয় Malala Day?

২০১৩ সালে জাতিসংঘ মালালার জন্মদিন ১২ জুলাই-কে Malala Day হিসেবে ঘোষণা করে।

এই দিনটি কেবল একজন মানুষের জন্মদিন নয়।

এটি প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার এবং বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষাকে নিশ্চিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রতীক।

ইতিহাসের শিক্ষা

মালালার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—

অস্ত্র দিয়ে একজন মানুষকে আহত করা যায়।

কিন্তু একটি আদর্শকে হত্যা করা যায় না।

যে কিশোরীকে চুপ করিয়ে দিতে চেয়েছিল উগ্রবাদীরা, আজ সেই কণ্ঠস্বর কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা।

History, Delivered
Monthly

Join 240,000 readers who receive deeply researched essays, archival discoveries, and long-form narratives about the past that illuminate the present.