বাংলার ইতিহাসের এক সাহসী সুলতান, গিয়াসউদ্দিন ইওজ খিলজী, যার নামের সাথে লিখা আছে বাংলার ইতিহাসের প্রথম নৌবাহিনী গড়ে তোলার গল্প। প্রায় ৮০০ বছর আগে, যখন ইউরোপ ছিল অন্ধকার যুগে, তখনই বাংলায় জন্ম নেয় এক অভূতপূর্ব ‘ওয়াটার আর্মি, নদীই হয়ে ওঠে যুদ্ধক্ষেত্র। হ্যাঁ, আমি বলছি সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খিলজীর কথা।
চলুন, আজ আমরা ঢুকে যাই সেই অজানা অধ্যায়ে!”
সময়টা ১৩শ শতাব্দীর শুরু। নদীমাতৃক এ বাংলার নিয়ন্ত্রণ মানেই শক্তি আর বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ। ইওজ খিলজী খুব ভালো করেই বুঝেছিলেন—যে রাজা নদী নিয়ন্ত্রণ করবে, সে-ই আসল রাজা। আর সেই কারণেই তিনি দাঁড় করালেন বাংলার ইতিহাসের প্রথম নৌবাহিনী।
কল্পনা করুন শত শত কাঠের যুদ্ধজাহাজ, প্রতিটি সাজানো ছিল ধনুক, তীর, তরবারি আর সৈন্যে ভরা। এই নৌবাহিনী শুধু নদীপথ রক্ষাই করেনি, বরং শত্রুর দুর্গে হানা দিতেও সক্ষম ছিল। এটা ছিল একেবারে নতুন ধরণের যুদ্ধনীতি—যেখানে জমির বদলে নদী হলো যুদ্ধক্ষেত্র। গিয়াসউদ্দিন ইওজ খিলজী (১২১২ – ১২২৭) প্রথমে দিল্লি সুলতানাতের গভর্নর ছিলেন। পরে তিনি নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। তাঁর শাসনামলে তৈরি হয় বাঁধ, দুর্গ, সড়ক, এমনকি শহরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বৈপ্লবিক উদ্যোগ ছিল এই নৌবাহিনী। এক কথায়, তিনি ছিলেন বাংলার ‘মেরিটাইম ভিশনারি।
এখন প্রশ্ন হলো—আমরা এতদিন ধরে কেন এই ইতিহাস ভুলে গেছি?
যদি আজকের বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শেকড় টেনে দেখা যায়, তার গোড়ায় কিন্তু দাঁড়িয়ে আছেন এই গিয়াসউদ্দিন ইওজ খিলজী। এক সাহসী ও দূরদর্শী সুলতান যা বাংলা ও বাংলাদেশের গৌরভ।