মাত্র ৬৭ শব্দ… কিন্তু সেই শব্দগুলোই এক শতাব্দী ধরে রক্তে ভাসাচ্ছে গাজা। প্রশ্ন হলো—কে লিখেছিল, কেন লিখেছিল, আর কারা এর শিকার হলো?”
কি ছিল সেই লিখনে রক্ত নাকি শান্তিঃ
১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর এক চিঠি লিখেন লর্ড রথসচাইল্ডের কাছে। যা ইতিহাসে ‘বেলফোর ঘোষণা’ নামে পরিচিত—কিন্তু আসলে সেটাই ছিল সেই অভিশপ্ত চিঠি, যার ছায়ায় অগণিত নিরীহ প্রাণ, শিশুর কান্না, মায়ের বুকফাটা আহাজারি, আর এক জাতির শতবর্ষের রক্তের দাগ।
যা ছিল চিঠিতে—

👉 ব্রিটেন ইহুদিদের জন্য প্যালেস্টাইনে একটি জাতীয় আবাস তৈরির পক্ষে।
👉 তবে শর্ত ছিল—এই প্রক্রিয়ায় অন্য সম্প্রদায়ের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।

এখান থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যোগ হয় এক অভিশাপ্ত দেশ ( রক্ত পিপাসু ইসরায়েল )
কিন্তু প্রশ্ন হলো—ইসরায়েল কি কখনও এই শর্ত মানেছিল?
নাকি তারা বলপূর্বক ভূমি দখল, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ, আর আজ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া দমন–নিপীড়নের ‘অনুমতি’ পেয়েছিল সেই বেলফোর ঘোষণার ৬৭ শব্দের মাধ্যমে?
এই ঘোষণার মাধ্যমে তৈরি হলো এক ভয়াবহ অন্যায়। বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনিরা হারাচ্ছে তাদের ঘর, জমি, আর জীবন। আজ ইসরায়েলের বোমা আর গুলিতে গাজার আকাশ লাল হয়ে আছে।
কিন্ত অপর দিকে সেই ৬৭ শব্দের বিনিময়ে বা ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণার বিনিময়ে ইংল্যান্ড পেয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ। তার উপর দ্বিতীয় বিশ যুদ্ধে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইংরেজরা ইহূদির পেয়েছিল নিজেদের পক্ষে যা ছিল ইংরেজদের এক দ্রঘকালিন এক কুটনৈতিক পরিকল্পনা। বলা চলে সুয়েজ খালের মতো কৌশলগত পথের নিরাপত্তা পাবার আশা ও মধ্যপ্রাচ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রনে আনা।
আজ ব্রিটেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাইছে। প্রশ্ন হলো—
👉 এটা কি সত্যিই মানবিক কারণে?
না কি আন্তর্জাতিক চাপ আর নিজের পুরনো ভুল ঢাকার কৌশল?
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
👉 ব্রিটেন কি সত্যিই মানবিক কারণে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে?
👉 নাকি এর পেছনে আবারো কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ লুকিয়ে আছে?
যদি দুনিয়া একসাথে দাঁড়ায়, ফিলিস্তিন হয়তো তার স্বাধীনতা ফিরে পাবে।
কিন্তু যদি বিশ্বশক্তিরা আবারো দ্বিমুখী খেলা খেলে—
তাহলে সেই ৬৭ শব্দের অভিশাপ থেকে ফিলিস্তিন কখনোই মুক্তি পাবে না।